নিচু পথের সেই সন্ধ্যাযেদিন ভয় কথা বলেনি, শুধু দাঁড়িয়ে ছিলPART 2১২. ভয় যেটা মুখ চায়নিসেদিনের ভয়টা কোনো মুখ চায়নি।সে চায়নি পরিচয়, চায়নি ব্যাখ্যা।সে শুধু ছিল—এটুকুই যথেষ্ট ছিল।ভয় যখন মুখ পায়, তখন আমরা পালাই বা লড়াই করি।কিন্তু ভয় যখন মুখহীন থাকে,
🌿 নিচু পথের সেই সন্ধ্যা
যেদিন ভয় কথা বলেনি, শুধু দাঁড়িয়ে ছিল
PART 2
১২. ভয় যেটা মুখ চায়নি
সেদিনের ভয়টা কোনো মুখ চায়নি।
সে চায়নি পরিচয়, চায়নি ব্যাখ্যা।
সে শুধু ছিল—এটুকুই যথেষ্ট ছিল।
ভয় যখন মুখ পায়, তখন আমরা পালাই বা লড়াই করি।
কিন্তু ভয় যখন মুখহীন থাকে,
তখন সে ভেতরে ঢুকে পড়ে—
ধীরে, নীরবে।
সেদিনের ভয়টা ঠিক সেরকমই ছিল।
কোনো আক্রমণ নয়,
কোনো তাড়া নয়,
শুধু এক মুহূর্ত—যেটা সময়কে থামিয়ে দিল।
১৩. মন কেন আকার খোঁজে
মানুষের মন শূন্যতা সহ্য করতে পারে না।
কারণ শূন্যতা মানে অনিশ্চয়তা।
আর অনিশ্চয়তা মানে—নিয়ন্ত্রণহীনতা।
তাই ব্যাখ্যা থামলেই মন আকার খোঁজে।
একটা চিহ্ন।
একটা নাম।
একটা গল্প।
এটা মিথ্যে বলার জন্য নয়।
এটা বাঁচার জন্য।
সেদিন মন সেই পরিচিত প্রতীকটাই তুলে নিয়েছিল,
যেটা আমাদের সংস্কৃতিতে নীরবতার ভাষা জানে।
১৪. জায়গা কীভাবে স্মৃতি ধরে রাখে
সব জায়গা একরকম থাকে না।
কিছু জায়গা স্মৃতি ধরে রাখে—
চিহ্ন ছাড়াই।
সেই পথটা তেমনই এক জায়গা হয়ে উঠেছিল।
ইট-পাথরের জন্য নয়,
ঘটনার জন্য নয়—
একটা অনুভূতির জন্য।
তারপর বহুবার ওই পথ দিয়ে হাঁটা হয়েছে।
কিন্তু প্রতিবারই হাঁটার গতি একটু ধীর হয়ে গেছে।
যেন মাটিটাই বলছে—
“এখানে একটু থামো।”
১৫. শৈশবের ভয় কেন এত দীর্ঘ
শৈশবের ভয় ফিল্টার পেরোয় না।
তা সরাসরি ঢুকে পড়ে।
তখন যুক্তি তৈরি হয়নি,
অভিজ্ঞতা জমেনি,
ভাষাও পুরো তৈরি নয়।
তাই সেই ভয়
একটা ছবি হয়ে নয়,
একটা আবহ হয়ে থাকে।
আজ এত বছর পরেও
সন্ধ্যার নীরবতায়
কখনো কখনো সেই আবহটা ফিরে আসে।
১৬. একসাথে থাকা নীরবতা
ঘটনার পর আমরা খুব বেশি কথা বলিনি।
কারণ কথা দরকার ছিল না।
কিছু নীরবতা ভয় থেকে আসে না—
সম্মান থেকে আসে।
সম্মান সেই অভিজ্ঞতার প্রতি,
যেটা কারও একার নয়,
সবার।
ব্যাখ্যা করলে সেটা ছোট হয়ে যেত।
তাই নীরবতাই ছিল যথাযথ।
১৭. বিশ্বাস আর অভিজ্ঞতার তফাৎ
বিশ্বাস মানে গ্রহণ করা।
অভিজ্ঞতা মানে স্বীকার করা।
এই লেখা বিশ্বাস চায় না।
এই লেখা শুধু স্বীকার করে—
সেই মুহূর্তটা ছিল।
সব অজানা অলৌকিক হয় না।
কিন্তু সব অজানা মানবিক।
এই দুইয়ের মাঝখানেই
সেদিনের সন্ধ্যাটা দাঁড়িয়ে আছে।
১৮. সে ছিল এক দরজা
সে কোনো সমাপ্তি ছিল না।
সে ছিল এক দরজা।
তার এপারে ছিল নিশ্চিন্ততা,
ওপারে ছিল সচেতনতা।
কিছু দরজা খুলে বন্ধ হয় না।
খুলে যায়—
আর ভেতরে ঢুকে পড়ে।
১৯. সে কেন আর ফিরে আসেনি
ভূত হলে ফিরে আসত।
গল্প হলে বাড়ত।
কিন্তু স্মৃতি হলে—
একবারই যথেষ্ট।
যেটা ফিরে আসে না,
সেটাই বেশি থাকে।
সেদিনের ঘটনা
বাইরে ফিরে আসেনি,
ভেতরে থেকে গেছে।
২০. ভয় যা কথা না বলে শেখায়
সেদিন কেউ কিছু শেখায়নি।
কিন্তু আমরা শিখেছিলাম।
সব নীরবতা নিরাপদ নয়
সব বিপদ দৃশ্যমান নয়
সব ভয় আক্রমণ করে না
কিছু ভয়
শুধু দাঁড়িয়ে থাকে
আর দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়।
২১. বড় হওয়া মানে ভুলে যাওয়া নয়
বড় হওয়া মানে ভুলে যাওয়া নয়।
বড় হওয়া মানে
ভিন্নভাবে বোঝা।
আজ ওই স্মৃতির দিকে তাকালে
ভয় লাগে না।
লাগে এক ধরনের গভীরতা।
যেন মনটা একটু বড় হয়েছিল সেদিন।
২২. নামহীনতার আকার
নামহীন জিনিস বড় লাগে।
নাম দিলে ছোট হয়ে যায়।
হয়তো সেই কারণেই
মন কিছু জিনিসকে
নাম দিতে চায় না।
নাম দিলে তাদের শক্তি কমে যায়।
২৩. ভয় এক শিক্ষক
সব শিক্ষক কথা বলেন না।
কিছু শিক্ষক দাঁড়িয়ে থাকেন।
ভয় সেদিন আমাদের অপমান করেনি।
ভয় আমাদের আঘাত করেনি।
ভয় আমাদের বিনয় শিখিয়েছে—
এই পৃথিবী আমাদের বোঝার চেয়েও বড়।
২৪. পথটা এক প্রতীক
পথটা নিচু ছিল।
সব কিছুর নিচে।
যেন বলছিল—
মানুষও অনেক সময়
নিশ্চয়তার নিচে দাঁড়িয়ে
উপরে তাকিয়ে থাকে।
সেই তাকানোই
মানুষকে মানুষ করে।
২৫. এখানেই আজ থামি
এই অংশটা এখানেই থামুক।
শেষ নয়—
একটা বিরতি।
কারণ এই স্মৃতি
জোর করে এগোয় না।
➜ পরের অংশে (PART 3) আসবে:
স্মৃতি কীভাবে পরিচয় গড়ে
ভয় কীভাবে কৌতূহলে বদলায়
নীরবতার ভাষা ও পরিণতি
ধীরে ধীরে সমাপ্তির দিকে যাত্রা
Written with AI
Comments
Post a Comment