নিচু পথের সেই সন্ধ্যাযেদিন ভয় কথা বলেনি, শুধু দাঁড়িয়ে ছিলPART 3২৬. স্মৃতি কীভাবে পরিচয় গড়েপরিচয় শুধু সিদ্ধান্তে গড়ে না।পরিচয় গড়ে পড়ে থাকা মুহূর্তে।সেদিনের সন্ধ্যাটা এমনই এক পড়ে থাকা মুহূর্ত।চোখে পড়ে গিয়েছিল—আর উঠে যায়নি।আমরা যাকে “আমি” বলি,তার ভেতরে কিছু অদেখা রেখা থাকে
🌿 নিচু পথের সেই সন্ধ্যা
যেদিন ভয় কথা বলেনি, শুধু দাঁড়িয়ে ছিল
PART 3
২৬. স্মৃতি কীভাবে পরিচয় গড়ে
পরিচয় শুধু সিদ্ধান্তে গড়ে না।
পরিচয় গড়ে পড়ে থাকা মুহূর্তে।
সেদিনের সন্ধ্যাটা এমনই এক পড়ে থাকা মুহূর্ত।
চোখে পড়ে গিয়েছিল—আর উঠে যায়নি।
আমরা যাকে “আমি” বলি,
তার ভেতরে কিছু অদেখা রেখা থাকে।
সেই রেখাগুলো আঁকা হয়
এমন সব অভিজ্ঞতায়—
যেগুলো ব্যাখ্যা চায় না,
কেবল উপস্থিতি দাবি করে।
২৭. ভয় থেকে কৌতূহল
সময় ভয়কে নরম করে।
যা তীক্ষ্ণ ছিল, তা ধীরে ধীরে মসৃণ হয়।
সেদিনের ভয়
আজ আর ভয় হয়ে আসে না।
সে আসে প্রশ্ন হয়ে—
“এটা কেন এতটা থেকে গেল?”
ভয় যখন কৌতূহলে বদলায়,
তখন মানুষ আর পালায় না।
মানুষ দাঁড়ায়।
শোনে।
দেখে।
২৮. নীরবতার ভাষা
নীরবতারও ভাষা আছে।
কিন্তু সে ভাষা শব্দে কথা বলে না।
সে কথা বলে—
থেমে যাওয়ায়
চোখ ফেরানোয়
নিঃশ্বাসের গতিতে
সেদিন নীরবতা
আমাদের সঙ্গে কথা বলেছিল।
বলেছিল—
সবকিছু বোঝার দরকার নেই।
২৯. একসাথে দেখা, একসাথে না-বলা
আমরা সবাই একই জিনিস দেখেছিলাম।
কিন্তু সবাই একই কথা বলিনি।
এটাই মানবিক।
কিছু অভিজ্ঞতা
একসাথে দেখার জন্য,
কিন্তু আলাদা আলাদা করে
ভেতরে রাখার জন্য।
এতে কোনো বিরোধ নেই।
এতে আছে সমঝোতা।
৩০. সময় কীভাবে স্মৃতি বদলায়
সময় স্মৃতি মুছে দেয় না।
সময় স্মৃতির প্রান্ত ভাঙে।
ধারগুলো গোল হয়ে যায়।
ব্যথা কমে।
অর্থ বাড়ে।
আজ সেদিনের কথা ভাবলে
মনের ভেতর অস্থিরতা আসে না।
আসে এক ধরনের শান্ত বিস্ময়।
৩১. প্রশ্ন যেগুলো উত্তর চায় না
কিছু প্রশ্ন আছে
যেগুলো উত্তর পেলে ছোট হয়ে যায়।
“সে কে ছিল?”
“ওটা কী ছিল?”
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না থাকাই
এই স্মৃতির শক্তি।
কারণ উত্তর দিলে
স্মৃতি শেষ হয়ে যেত।
৩২. অজানা মানেই ভয় নয়
আমরা ছোটবেলায় ভাবি—
অজানা মানেই ভয়।
বড় হয়ে বুঝি—
অজানা মানে সম্ভাবনা।
সেদিনের সন্ধ্যা
এই বদলটা শিখিয়েছিল।
৩৩. দৃষ্টিভঙ্গির নীরব পরিবর্তন
এরপর থেকে
অন্ধকার আর আগের মতো থাকেনি।
ভয় বাড়েনি।
কেবল দৃষ্টি বদলেছে।
অন্ধকারে এখন
শুধু কিছু লুকিয়ে নেই—
কিছু অপেক্ষাও করে।
৩৪. স্মৃতি যখন ভারী নয়
সব স্মৃতি বোঝা হয় না।
কিছু স্মৃতি
হালকা হয়ে পাশে হাঁটে।
এই স্মৃতি তেমনই।
সে টানে না,
সে ঠেলে দেয় না।
সে শুধু বলে—
“আমি আছি।”
৩৫. কথা বলার লোভ
এখন, এত বছর পরে,
এই গল্প বলার একটা লোভ জাগে।
কিন্তু সেই লোভ
ভয় ছড়ানোর নয়।
সে লোভ
নীরবতাকে সম্মান করার।
কারণ নীরবতাকে ভাঙা
সবসময় প্রয়োজন হয় না।
৩৬. নাম দিলে কী হয়
নাম দিলে জিনিস চেনা হয়।
কিন্তু চেনা মানেই ধরা নয়।
কিছু জিনিস ধরা পড়তে চায় না।
তারা কেবল অনুভূত হতে চায়।
সেদিনের ঘটনাটা তেমনই।
৩৭. স্মৃতির সঙ্গে সহাবস্থান
স্মৃতির সঙ্গে লড়াই করলে
স্মৃতি জেতে।
স্মৃতির সঙ্গে থাকলে
স্মৃতি শান্ত হয়।
আজ এই স্মৃতির সঙ্গে
সহাবস্থান আছে।
ভয় নেই।
অস্বস্তি নেই।
শুধু উপস্থিতি।
৩৮. নিচু পথ, উঁচু ভাবনা
পথটা ছিল নিচু।
কিন্তু ভাবনাটা উঁচু হয়ে উঠেছিল।
এই বৈপরীত্যটাই
মানুষের জীবন।
আমরা নিচে দাঁড়িয়ে
উপরে ভাবি।
৩৯. এখান থেকে এগোনো
এই অংশ এখানেই থামুক।
কারণ এখন গল্প
শেষের দিকে হাঁটছে।
শেষ মানে সমাপ্তি নয়—
শেষ মানে গ্রহণ।
➜ PART 4-এ আসবে
স্মৃতি, পরিচয় ও পরিণতি
ভয় কীভাবে শ্রদ্ধায় বদলায়
সমাপ্তির আগে নীরব দাঁড়িয়ে থাকা
শেষের দিকে ধীর যাত্রা
Written with AI
Comments
Post a Comment