বাংলা ব্লগ – পার্ট ২ (একটানা লেখা)সমাজ নীরবতাকে ভয় পায়, কারণ নীরবতাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। শব্দকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়—কাকে কী বলতে হবে, কখন বলতে হবে, কীভাবে বলতে হবে। কিন্তু নীরব মানুষের মাথার ভেতরে কী চলছে, তা কেউ জানে না। এই অজানাটাই সমাজকে অস্বস্তিতে ফেলে। অস্বস্তি থেকেই জন্ম নেয় সন্দেহ, আর সন্দেহ থেকে আসে তকমা।যে মানুষ কম কথা বলে, সে সমাজের কাছে অপ্রত্যাশিত। প্রত্যাশা ভাঙলেই সমস্যা। স্কুলে চুপ থাকা বাচ্চাকে বলা হয় অমনোযোগী। অফিসে চুপ থাকা কর্মীকে বলা হয় অমিল। পরিবারে চুপ থাকা মানুষকে বলা হয় সমস্যা আছে। কোথাও চুপ থাকা স্বাভাবিক নয়। অথচ কেউ ভাবতে চায় না—হয়তো এই মানুষটি গভীরভাবে ভাবছে।
🟦 বাংলা ব্লগ – পার্ট ২ (একটানা লেখা)
সমাজ নীরবতাকে ভয় পায়, কারণ নীরবতাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। শব্দকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়—কাকে কী বলতে হবে, কখন বলতে হবে, কীভাবে বলতে হবে। কিন্তু নীরব মানুষের মাথার ভেতরে কী চলছে, তা কেউ জানে না। এই অজানাটাই সমাজকে অস্বস্তিতে ফেলে। অস্বস্তি থেকেই জন্ম নেয় সন্দেহ, আর সন্দেহ থেকে আসে তকমা।
যে মানুষ কম কথা বলে, সে সমাজের কাছে অপ্রত্যাশিত। প্রত্যাশা ভাঙলেই সমস্যা। স্কুলে চুপ থাকা বাচ্চাকে বলা হয় অমনোযোগী। অফিসে চুপ থাকা কর্মীকে বলা হয় অমিল। পরিবারে চুপ থাকা মানুষকে বলা হয় সমস্যা আছে। কোথাও চুপ থাকা স্বাভাবিক নয়। অথচ কেউ ভাবতে চায় না—হয়তো এই মানুষটি গভীরভাবে ভাবছে।
নীরব মানুষদের সবচেয়ে বড় অপরাধ হলো—তারা অংশগ্রহণের ভান করে না। তারা প্রয়োজন না হলে হাসে না, অপ্রয়োজনীয় কথায় সায় দেয় না। সমাজ এটাকে অহংকার ভাবে। আসলে এটি সততা। তারা জানে, সব কথোপকথন সংযোগ তৈরি করে না; কিছু কথোপকথন মানুষকে আরও ফাঁকা করে দেয়।
একসময় এই ভুল বোঝাবুঝি মানুষকে ক্লান্ত করে তোলে। বারবার নিজের চুপ থাকাকে ব্যাখ্যা করতে করতে মানুষ হাল ছেড়ে দেয়। তখন নীরবতা আর পছন্দ থাকে না—অভ্যাস হয়ে যায়। কিন্তু এই অভ্যাস দুর্বলতার নয়, আত্মরক্ষার।
একাকীত্ব আর একা থাকার মধ্যে সমাজ পার্থক্য করতে শেখেনি। একা থাকা মানেই একাকীত্ব নয়। অনেক সময় একা থাকা মানে নিজেকে জোড়া লাগানো। ভাঙা মন ভিড়ে সারে না; নীরবতায় সারে। কিন্তু এই নিরাময় প্রক্রিয়া বাইরে থেকে দেখা যায় না, তাই সমাজ বিশ্বাসও করে না।
নীরবতার একটি নৈতিক দিকও আছে। সব কথা বলার মতো হয় না। সব সত্য বলার মতো নিরাপদ হয় না। কিছু অনুভূতি প্রকাশ পেলে নষ্ট হয়ে যায়। এই বোধ যাদের আছে, তারা চুপ থাকে। তারা জানে, কথা বললে নয়, না বললে অনেক সময় বেশি সুরক্ষা থাকে।
সমাজ আসলে গভীরতাকে ভয় পায়। কারণ গভীরতা প্রশ্ন তোলে। প্রশ্ন ভাঙে নিয়ম। নিয়ম ভাঙলেই অস্বস্তি। তাই গভীর মানুষকে সরল শব্দে আটকে দেওয়া হয়—“পাগল”, “অদ্ভুত”, “অস্বাভাবিক”। এতে আর ভাবতে হয় না।
এই তকমাগুলো ধীরে ধীরে মানুষের ভেতরে ঢুকে যায়। সে ভাবতে শুরু করে—“আমি কি সত্যিই ঠিক নই?” এখানেই বিপদ। সমাজের ভুল ধারণা যখন নিজের ধারণা হয়ে যায়, তখন নীরবতা আর শান্তি দেয় না; বোঝা হয়ে ওঠে।
তবুও কিছু মানুষ চুপ থাকে। কারণ তারা জানে, নিজেকে হারিয়ে কথা বলার চেয়ে চুপ থেকে নিজেকে বাঁচানো ভালো। এই চুপ থাকা আত্মসম্মানের চুপ। এটি প্রতিবাদ নয়, ঘোষণা নয়—এটি অবস্থান।
নীরবতা এখানে অনুপস্থিতি নয়; উপস্থিতির ভিন্ন রূপ। নীরব মানুষ ঘরে থাকে, সমাজে থাকে, পৃথিবীতেই থাকে—শুধু শব্দের ভিড়ে নিজেকে বিলিয়ে দেয় না।
👉 written with AI
Comments
Post a Comment