প্রায়… : না-শোনা থেকে যাওয়ার বেদনাপার্ট ৩ (মানসিক ও দার্শনিক গভীরতা)২৬. শরীর মনে রাখে, মুখ না বললেওসব স্মৃতি শব্দে থাকে না।কিছু স্মৃতি থাকে— শ্বাসে,বুকে,নীরব টানটানে অনুভূতিতে।যে কথা বলা হয়নি,শরীর সেটাকে ভুলে না।এই কারণেই এমন মুহূর্ত হঠাৎ ফিরে আসে— কোনো কারণ ছাড়াই।২৭. কেন আমরা বলা হয়নি এমন কথার মহড়া দিই
প্রায়… : না-শোনা থেকে যাওয়ার বেদনা
পার্ট ৩ (মানসিক ও দার্শনিক গভীরতা)
২৬. শরীর মনে রাখে, মুখ না বললেও
সব স্মৃতি শব্দে থাকে না।
কিছু স্মৃতি থাকে— শ্বাসে,
বুকে,
নীরব টানটানে অনুভূতিতে।
যে কথা বলা হয়নি,
শরীর সেটাকে ভুলে না।
এই কারণেই এমন মুহূর্ত হঠাৎ ফিরে আসে— কোনো কারণ ছাড়াই।
২৭. কেন আমরা বলা হয়নি এমন কথার মহড়া দিই
অনেক মানুষ এমন কথোপকথন কল্পনায় চালায়— যেটা কোনোদিন হয়নি।
এটা দুর্বলতা নয়।
এটা মস্তিষ্কের অসমাপ্ত কাজ শেষ করার চেষ্টা।
এই কবিতা সেই কল্পিত কথোপকথনের একটি বাস্তব রূপ।
২৮. মানসিক নিরাপত্তা না থাকলে কথা আসে না
কথা বলার জন্য শুধু সাহস লাগে না—
লাগে নিরাপত্তা।
যখন মনে হয়— “আমি এখন বললে কেউ থাকবে না”—
তখন নীরবতা আসে।
এই নীরবতা ভয় থেকে নয়,
বোধ থেকে জন্মায়।
২৯. সব সত্য তাড়াহুড়ো সহ্য করে না
আমরা ভাবি— এখনই বলো, নইলে হারিয়ে যাবে।
কিন্তু কিছু সত্য আছে— যা তাড়াহুড়োতে বিকৃত হয়।
এই কবিতা সেই সত্যগুলোর পক্ষ নেয়— যাদের সময় লাগে।
৩০. শ্রোতারও একটি অদৃশ্য গল্প থাকে
যে শোনেনি, সে সবসময় উদাসীন নয়।
সে হতে পারে— ক্লান্ত,
ভীত,
অপ্রস্তুত।
এই বোঝাপড়া কষ্ট কমায় না,
কিন্তু বিষ কমায়।
এই কবিতা দোষ দেয় না—
জটিলতাকে স্বীকার করে।
৩১. মনোযোগের নৈতিক ওজন
মনোযোগ নিরপেক্ষ নয়।
যেখানে মনোযোগ দিই— সেখানেই মূল্য দিই।
শোনার আগেই চলে যাওয়া মানে— সেই মূল্য অস্বীকার করা।
এই কবিতা সেই নৈতিক প্রশ্নটুকু রেখে যায়।
৩২. বিদায়ের পর যে নীরবতা
চলে যাওয়ার পর কোনো নাটক হয় না।
শুধু— একটু ফাঁকা,
একটু ভারী অনুভূতি।
এই ছোট ফাঁকগুলোই মানুষকে ধীরে ধীরে বদলে দেয়।
৩৩. নিজেকে ছোট করে নেওয়ার শিক্ষা
বারবার না-শোনা হলে মানুষ শিখে—
কথা সংক্ষিপ্ত করতে
অনুভূতি গুটিয়ে রাখতে
নিজেকে কম গুরুত্ব দিতে
এটা চরিত্র নয়।
এটা প্রতিক্রিয়া।
এই কবিতা সেই প্রতিক্রিয়ার উৎসের দিকে তাকায়।
৩৪. লেখাই কেন দ্বিতীয় সুযোগ
জীবনে সবাই শোনে না।
কাগজ শোনে।
লেখা সেই জায়গা— যেখানে কথা আর অনুমতির অপেক্ষা করে না।
এই কবিতাও তাই— একটি না-পাওয়া সুযোগের পুনরুদ্ধার।
৩৫. এই অভিজ্ঞতা কেন সবার
কারণ আমরা সবাই— কখনও না-শোনা মানুষ,
কখনও না-শোনা দেওয়া মানুষ।
এই দ্বৈততাই লেখাটিকে সার্বজনীন করে তোলে।
৩৬. উপস্থিতি একটি দুর্লভ গুণ
সত্যিকারের উপস্থিতি মানে— শুধু থাকা নয়, পুরো থাকা।
এই কবিতা আমাদের মনে করিয়ে দেয়— এই গুণটি এখন কতটা বিরল।
৩৭. এগিয়ে যাওয়া আর বহন করে নেওয়ার পার্থক্য
এগিয়ে যাওয়া মানে ভুলে যাওয়া নয়।
বহন করে নেওয়া মানে— বোঝা,
রূপান্তর করা।
বক্তা ভুলে যায় না—
সে অর্থ খুঁজে পায়।
৩৮. কবিতাটি কী করতে চায় না
এই কবিতা— ক্ষমা চায় না,
ক্ষমা দেয় না,
সমাধান চাপিয়ে দেয় না।
এটি শুধু সত্যের পাশে দাঁড়ায়।
৩৯. পাঠক এখানে অসম্পূর্ণ বাক্যটি পূরণ করে
কবিতায় সেই কথাটি বলা হয়নি।
কারণ সেটি পাঠকের।
এই অসম্পূর্ণতাই কবিতার শক্তি।
৪০. এই অংশের সারকথা
মানুষ কথা বলার আগে শুধু শব্দ প্রস্তুত করে না—
সে নিজেকে প্রস্তুত করে।
শোনার আগেই চলে যাওয়া মানে— সেই প্রস্তুতিকে অস্বীকার করা।
এই কবিতা সেই অস্বীকৃতির নীরব সাক্ষ্য।
Written with AI
Comments
Post a Comment