প্রজাতন্ত্র দিবসের অশ্রু: লেখা ও অলিখিত আত্মত্যাগবাংলা ব্লগ – পর্ব ১ভূমিকা: কেন প্রজাতন্ত্র দিবসে চোখ ভিজে ওঠেপ্রজাতন্ত্র দিবস মানেই সাধারণত শোভাযাত্রা, পতাকা, দেশাত্মবোধক গান আর গর্বের অনুভূতি। কিন্তু অনেকের কাছে এই দিনটি শুধুই উৎসবের নয়—এটি স্মৃতির দিন।দেশাত্মবোধক গান শুনলে কেন হঠাৎ চোখ ভিজে ওঠে?
বাংলা ব্লগ – পর্ব ১
ভূমিকা: কেন প্রজাতন্ত্র দিবসে চোখ ভিজে ওঠে
প্রজাতন্ত্র দিবস মানেই সাধারণত শোভাযাত্রা, পতাকা, দেশাত্মবোধক গান আর গর্বের অনুভূতি। কিন্তু অনেকের কাছে এই দিনটি শুধুই উৎসবের নয়—এটি স্মৃতির দিন।
দেশাত্মবোধক গান শুনলে কেন হঠাৎ চোখ ভিজে ওঠে?
কারণ প্রতিটি অধিকারের পেছনে আছে ত্যাগ।
প্রতিটি সংবিধানের ধারার পেছনে আছে মানুষের জীবন, কষ্ট আর নীরব সংগ্রাম।
এই ব্লগের জন্ম সেই অশ্রু থেকে—যা দুর্বলতা থেকে নয়, চেতনা থেকে ঝরে।
ইতিহাসে নেই, স্মৃতিতে আছেন: মুন্সী আমিরউদ্দিন
আমার মায়ের দাদু পরিচিত ছিলেন মাওলানা বা মুন্সী আমিরউদ্দিন নামে। পারিবারিক স্মৃতি এবং আমাদের বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি ছিলেন—
একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী
একজন অখ্যাত কবি ও গল্পকার
এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য কারাবন্দি
আজ তাঁর সম্পর্কে কোনো সরকারি নথি নেই।
কোনো ইতিহাস বইয়ে তাঁর নাম নেই।
তাঁর কবিতা বা গল্প সংরক্ষিত নেই।
ইতিহাসের চোখে তিনি যেন অনুপস্থিত।
কিন্তু স্মৃতির কাছে তিনি অস্বীকারযোগ্য নন।
নথি বনাম বাস্তবতা
ঔপনিবেশিক ভারতের বাস্তবতা আমাদের মনে রাখতে হবে।
স্বাধীনতা আন্দোলনে যুক্ত বহু মানুষ—
স্থানীয় স্তরে কাজ করেছেন
প্রচার এড়িয়ে চলেছেন
কারাবরণ করেছেন, কিন্তু নথিভুক্ত হননি
স্বাধীনতার পরও পরিচিত হননি
ইতিহাস সাধারণত নেতৃত্বকে ধরে রাখে, কিন্তু অবদানকে নয়।
মুন্সী আমিরউদ্দিন সেইসব নীরব মানুষের একজন—যাঁরা আলোতে ছিলেন না, কিন্তু আলোর জন্য লড়েছেন।
লেখা ছিল, সংরক্ষণ ছিল না
সেই সময় কবিতা ও গল্প লেখা মানেই বই প্রকাশ নয়। অধিকাংশ লেখা ছিল—
হাতে লেখা
মুখে মুখে আবৃত্ত
সীমিত পরিসরে প্রচলিত
দারিদ্র্য, ভয়, দেশভাগ, স্থানান্তর—সব মিলিয়ে অসংখ্য লেখা হারিয়ে গেছে।
আজ কোনো লেখা না পাওয়া মানেই এই নয় যে লেখা ছিল না।
এর মানে—ইতিহাস সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে।
প্রজাতন্ত্র দিবস ও নৈতিক স্মৃতি
প্রজাতন্ত্র দিবস কেবল একটি সাংবিধানিক মুহূর্ত নয়। এটি একটি নৈতিক প্রশ্ন।
আমরা কি শুধু পরিচিত নামগুলোই স্মরণ করব?
না কি সেই নীরব মানুষগুলোকেও—যাঁদের ছাড়া স্বাধীনতা অসম্পূর্ণ?
একটি প্রজাতন্ত্র কাগজে টিকে থাকে না।
তা টিকে থাকে স্মৃতি, দায়বদ্ধতা আর নৈতিকতার ওপর।
কারবালা ও অলিখিত যাত্রার ভাবনা
এই অশ্রুর সঙ্গে আরেকটি ভাবনা জড়িয়ে আছে।
একটি বিশ্বাস আছে—ভারতের প্রায় ত্রিশ হাজার ব্রাহ্মণ হিন্দু ইমাম হুসাইনের সঙ্গে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে কারবালার পথে রওনা হয়েছিলেন। ইতিহাস বই এ বিষয়ে নীরব। কোনো নিশ্চিত নথি নেই।
তবু এই বিশ্বাস টিকে আছে—কারণ এটি একটি নৈতিক সত্য প্রকাশ করে।
ইমাম হুসাইনের সংগ্রাম ধর্মের সীমা ছাড়িয়ে ন্যায়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
যখন ইতিহাস নীরব, দর্শন কথা বলে
দর্শন আমাদের শেখায়—
নথি না থাকাই মিথ্যার প্রমাণ নয়।
কিছু সত্য কাগজে থাকে।
কিছু সত্য মানুষের বিবেকে।
মুন্সী আমিরউদ্দিন ও কারবালার এই বিশ্বাস—দুটোই বিবেকের ইতিহাস।
👉 বাংলা ব্লগ – পর্ব ১ এখানেই শেষ।
পর্ব ২–এ আমি লিখব:
প্রজাতন্ত্র দিবস ও নৈতিক নাগরিকত্ব
অখ্যাত স্বাধীনতা সংগ্রামীদের গুরুত্ব
বিশ্বাস, সন্দেহ ও সততার সম্পর্ক
স্মৃতির রাজনীতি
Written with AI
Comments
Post a Comment