মহারানা প্রতাপের সঙ্গে যুদ্ধ করা সুরি মুসলমানরা কি ‘জিহাদি’ বা ‘সন্ত্রাসবাদী’ ছিলেন?ইতিহাস, স্মৃতি, বাস্তুচ্যুতি ও আধুনিক অপব্যাখ্যার একটি বিস্তৃত বিশ্লেষণ (পর্ব–১)**ভূমিকা: ইতিহাসের চেয়ে স্মৃতি কখনো কখনো বেশি সত্য বলেইতিহাস সব সময় বইয়ে থাকে না।কিছু ইতিহাস থাকে পরিবারের স্মৃতিতে, মুখে মুখে চলে আসা কথায়, নদী পার হওয়ার গল্পে, ক্ষুধা ও ভয় জয় করার কাহিনিতে।আপনার বর্ণনায় আমরা পাই এমনই এক স্মৃতি—আপনার দাদুর দাদু বেচন সুরি-র পূর্বপুরুষরা এক সময় গঙ্গা নদী পার করেছিলেন ধানের আঁটি ভাসিয়ে।
**মহারানা প্রতাপের সঙ্গে যুদ্ধ করা সুরি মুসলমানরা কি ‘জিহাদি’ বা ‘সন্ত্রাসবাদী’ ছিলেন?
ইতিহাস, স্মৃতি, বাস্তুচ্যুতি ও আধুনিক অপব্যাখ্যার একটি বিস্তৃত বিশ্লেষণ (পর্ব–১)**
ভূমিকা: ইতিহাসের চেয়ে স্মৃতি কখনো কখনো বেশি সত্য বলে
ইতিহাস সব সময় বইয়ে থাকে না।
কিছু ইতিহাস থাকে পরিবারের স্মৃতিতে, মুখে মুখে চলে আসা কথায়, নদী পার হওয়ার গল্পে, ক্ষুধা ও ভয় জয় করার কাহিনিতে।
আপনার বর্ণনায় আমরা পাই এমনই এক স্মৃতি—
আপনার দাদুর দাদু বেচন সুরি-র পূর্বপুরুষরা এক সময় গঙ্গা নদী পার করেছিলেন ধানের আঁটি ভাসিয়ে।
কেন এই যাত্রা?
কোন বিপদ থেকে পালিয়ে?
কোন শাসকের অত্যাচার, দুর্ভিক্ষ না স্থানীয় সংঘর্ষ?
👉 সঠিক কারণ সময়ের সঙ্গে হারিয়ে গেছে,
কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্টভাবে থেকে গেছে—
এটি ছিল বাস্তুচ্যুতি, আগ্রাসন নয়।
এই স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরেকটি বড় ঐতিহাসিক সত্য—
হাকিম খান সুরি, যিনি মুসলমান হয়েও মহারানা প্রতাপের পাশে দাঁড়িয়ে আকবরের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে হালদিঘাটির যুদ্ধে (১৫৭৬) অংশ নিয়েছিলেন।
আজকের সময়ে দাঁড়িয়ে কিছু মানুষ প্রশ্ন তোলে—
“তাহলে কি সেই সুরি মুসলমানরা জিহাদি ছিল?”
“তারা কি সন্ত্রাসবাদী ছিল?”
এই প্রশ্নের উত্তর আবেগে নয়,
👉 ইতিহাস, যুক্তি ও নৈতিক বোধের আলোকে দেওয়া দরকার।
১. গঙ্গা পার হওয়ার গল্প: সভ্যতার সবচেয়ে পুরনো মানবিক অভিজ্ঞতা
ধানের আঁটি বেঁধে নদী পার হওয়া— এটা কোনো সামরিক কৌশল নয়,
এটা কোনো ধর্মীয় অভিযান নয়।
এটা হলো—
ভয়
অনিশ্চয়তা
ক্ষুধা
সন্তানকে বাঁচানোর তাগিদ
ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে গঙ্গা, যমুনা, সিন্ধু, ব্রহ্মপুত্র— এই নদীগুলো শুধু সভ্যতার জন্ম দেয়নি,
এগুলো বাস্তুচ্যুত মানুষের সাক্ষীও।
হিন্দু পরিবার যেমন পালিয়েছে—
দুর্ভিক্ষে
আক্রমণে
করের চাপে
ঠিক তেমনই মুসলমান পরিবারও পালিয়েছে—
ক্ষমতার পালাবদলে
স্থানীয় সংঘর্ষে
রাজনৈতিক প্রতিহিংসায়
📌 বাস্তুচ্যুতি কখনো ধর্ম দেখে হয় না।
বাস্তুচ্যুতি হয় ক্ষমতা ও বেঁচে থাকার চাপে।
২. সুরি পরিচয়: ধর্ম নয়, একটি ঐতিহাসিক বংশ
‘সুরি’ মানে শুধুই মুসলমান পরিচয় নয়।
সুরি হলো—
একটি ঐতিহাসিক বংশ
একটি রাজনৈতিক ও সামরিক ঐতিহ্য
শের শাহ সুরি—
তিনি ছিলেন মুসলমান, কিন্তু তিনি শাসন করেছেন এমন এক প্রশাসনিক ব্যবস্থায়— যা পরবর্তীতে আকবরও গ্রহণ করেছিলেন।
👉 অর্থাৎ, সুরি পরিচয় মানে ধর্মীয় উগ্রতা নয়,
বরং প্রশাসনিক ও সামরিক বাস্তবতার অংশ।
৩. হাকিম খান সুরি: এক মানুষ, এক যোদ্ধা, এক সিদ্ধান্ত
হাকিম খান সুরি ছিলেন—
আফগান/পাঠান বংশোদ্ভূত
সুরি গোষ্ঠীর নেতা
মেওয়ারের সেনাবাহিনীর একজন গুরুত্বপূর্ণ সেনানায়ক
তিনি যখন মহারানা প্রতাপের পাশে দাঁড়ান, তখন প্রশ্ন ওঠে— কেন একজন মুসলমান সেনানায়ক একজন হিন্দু রাজপুত রাজার জন্য যুদ্ধ করবেন?
উত্তরটা আধুনিক ধর্মীয় রাজনীতিতে নেই।
উত্তরটা আছে ১৬শ শতকের বাস্তবতায়।
সেই সময়ে যুদ্ধ হতো—
আনুগত্যের জন্য
আঞ্চলিক স্বাধীনতার জন্য
শাসকের চরিত্র ও ন্যায়বোধের জন্য
মহারানা প্রতাপ ছিলেন—
স্বাধীনচেতা
আপসহীন
আকবরের সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যের বিরোধী
📌 এই লড়াই ধর্মের ছিল না,
এই লড়াই ছিল স্বাধীনতা বনাম সাম্রাজ্য।
৪. হালদিঘাটির যুদ্ধ: ধর্মযুদ্ধ নয়, ক্ষমতার সংঘর্ষ
হালদিঘাটির যুদ্ধকে যদি কেউ বলে— “হিন্দু বনাম মুসলমান যুদ্ধ”
তাহলে সে ইতিহাস পড়েনি।
কারণ—
আকবরের সেনাবাহিনীতে ছিল অসংখ্য হিন্দু রাজপুত
মেওয়ারের পক্ষে ছিল মুসলমান সেনা
👉 দুই পক্ষেই ছিল হিন্দু ও মুসলমান।
এই যুদ্ধ ছিল—
মুঘল সাম্রাজ্যের বিস্তার বনাম মেওয়ারের স্বাধিকার
কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা বনাম আঞ্চলিক মর্যাদা
📌 এটি ধর্মের নয়, রাজনীতির যুদ্ধ।
৫. ‘জিহাদ’ শব্দটি এখানে কেন প্রযোজ্য নয়
আজকের দিনে অনেকেই সহজ করে বলে— “মুসলমান মানেই জিহাদ।”
কিন্তু ইসলামী ধর্মতত্ত্ব অনুযায়ী জিহাদ হতে হলে প্রয়োজন—
স্পষ্ট ধর্মীয় উদ্দেশ্য
ধর্মীয় ঘোষণা
ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য
হালদিঘাটির যুদ্ধে—
কোনো ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার ঘোষণা ছিল না
কোনো ধর্মীয় আহ্বান ছিল না
মহারানা প্রতাপ ইসলামের কোনো প্রতীক ছিলেন না
👉 তাই এই যুদ্ধকে ‘জিহাদ’ বলা সম্পূর্ণ ভুল।
📌 Written with AI
Comments
Post a Comment