দাদার আগে বাবা মারা গেলেনাতি কি সত্যিই ইসলামে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়? (বাংলা – অংশ ১)ভূমিকাজীবনে কিছু ক্ষতি আসে নীরবে, আবার কিছু ক্ষতি আসে ব্যাখ্যা নিয়ে।একটি শিশু ছোটবেলায় তার বাবাকে হারায়।সময়ের সঙ্গে সে বড় হয়।কিন্তু একদিন, যখন দাদার মৃত্যু হয়, তখন সমাজ বা পরিবার থেকে সে শোনে—“তোমার বাবা দাদার আগে মারা গেছেন,তাই দাদার জমি বা সম্পত্তিতে তোমার কোনো অধিকার নেই।”
দাদার আগে বাবা মারা গেলে
নাতি কি সত্যিই ইসলামে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়? (বাংলা – অংশ ১)
ভূমিকা
জীবনে কিছু ক্ষতি আসে নীরবে, আবার কিছু ক্ষতি আসে ব্যাখ্যা নিয়ে।
একটি শিশু ছোটবেলায় তার বাবাকে হারায়।
সময়ের সঙ্গে সে বড় হয়।
কিন্তু একদিন, যখন দাদার মৃত্যু হয়, তখন সমাজ বা পরিবার থেকে সে শোনে—
“তোমার বাবা দাদার আগে মারা গেছেন,
তাই দাদার জমি বা সম্পত্তিতে তোমার কোনো অধিকার নেই।”
এই কথাটি শুধু একটি আইনগত বক্তব্য নয়—
এটি একটি মানসিক আঘাত।
এখানেই প্রশ্ন ওঠে—
একজন মানুষ কি সত্যিই দু’বার সব হারায়?
একবার বাবা, আরেকবার দাদার সম্পত্তি?
ইসলাম কি সত্যিই এমন কঠোর একটি নিয়ম দেয়?
এই প্রশ্ন আবেগের নয়—
এটি ন্যায়, মানবতা এবং ধর্মীয় বোঝাপড়ার প্রশ্ন।
আলোচ্য নিয়মটি কী?
ইসলামী উত্তরাধিকার আইন (মিরাস) অনুযায়ী একটি সুপরিচিত নিয়ম আছে—
যদি কোনো ব্যক্তির বাবা দাদার আগে মারা যান,
তাহলে সেই ব্যক্তি (নাতি/নাতনি) দাদার সম্পত্তির স্বয়ংক্রিয় উত্তরাধিকারী হন না।
অর্থাৎ:
দাদার মৃত্যুর সময় যদি বাবা জীবিত না থাকেন
এবং দাদার অন্য সন্তান (চাচা/ফুপু) জীবিত থাকেন
তাহলে নাতি সাধারণভাবে মিরাস পান না
এই নিয়মের ফলেই অনেক সময় বলা হয়—
“সে দু’বার এতিম হয়েছে।”
এই নিয়ম কি সত্যিই ইসলামে আছে?
সংক্ষিপ্ত উত্তর: হ্যাঁ, আছে।
কিন্তু এখানেই থামলে ভুল বোঝাবুঝি শুরু হয়।
এই নিয়ম এসেছে:
ইসলামী উত্তরাধিকার শাস্ত্র (ইলমুল ফারায়েজ) থেকে
যা মূলত কুরআন-এর নির্দেশনার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে
এবং পরবর্তীতে সাহাবি ও ফিকহবিদদের ব্যাখ্যায় সুসংহত হয়েছে
কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—
এই আইন আবেগ নয়, কাঠামোর উপর দাঁড়িয়ে।
ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের একটি মৌলিক নীতি
ইসলামে উত্তরাধিকার শুরু হয় মৃত্যুর মুহূর্তে, তার আগে নয়।
একটি মৌলিক নীতি হলো—
মৃত্যুর সময় যাঁরা জীবিত থাকেন,
কেবল তাঁরাই উত্তরাধিকারী হতে পারেন।
এর অর্থ:
কেউ ভবিষ্যতের সম্ভাব্য উত্তরাধিকার “আগে থেকে” ধরে রাখতে পারেন না
মৃত ব্যক্তি কোনো আইনি অবস্থান ধরে রাখেন না
এই নীতির কারণে—
বাবা যদি দাদার আগে মারা যান
তাহলে বাবার কোনো উত্তরাধিকার কার্যকর হয় না
ফলে সেই “অস্তিত্বহীন” অংশ সন্তানের কাছে পৌঁছায় না
এটি নিষ্ঠুর শোনালেও, এটি একটি আইনি ধারাবাহিকতা।
কাছের আত্মীয় দূরের আত্মীয়কে কেন বাদ দেয়?
ইসলামী আইনে একটি ধারণা আছে, যাকে বলা হয় হাজব (Ḥajb)—অর্থাৎ বাধা বা অবরোধ।
সহজ ভাষায়:
যিনি আত্মীয়তায় কাছের,
তিনি দূরের আত্মীয়কে উত্তরাধিকার থেকে বাদ দিতে পারেন।
উদাহরণ:
জীবিত ছেলে → নাতিকে বাদ দেয়
জীবিত বাবা → দাদাকে বাদ দেয়
জীবিত ভাই → ভাতিজাকে বাদ দেয়
এই নীতির লক্ষ্য:
উত্তরাধিকারকে সীমিত রাখা
জটিলতা কমানো
সম্পত্তি বণ্টনে স্থিতিশীলতা আনা
তাহলে কি ইসলাম মানবিক দিকটা উপেক্ষা করেছে?
এখানেই মূল ভুল বোঝাবুঝি।
এই পর্যায় পর্যন্ত আমরা শুধু আইনি কাঠামো দেখলাম।
কিন্তু ইসলাম কখনোই আইনকে একা দাঁড় করায় না।
পরবর্তী অংশে (Part 2) আমরা দেখব—
এতিম সম্পর্কে কুরআনের কঠোর সতর্কতা
আইন ও নৈতিকতার পার্থক্য
কেন “আইনগতভাবে বৈধ” মানেই “নৈতিকভাবে সঠিক” নয়
ইসলাম কীভাবে এই ফাঁক পূরণ করেছে (ওসিয়ত, দান, দায়িত্ব)
👉 পরবর্তী অংশে আসছে (বাংলা – Part 2):
“ইসলাম কি এতিমকে উপেক্ষা করে?
কুরআনের নৈতিক অবস্থান ও মানবিক সমাধান”
Written with AI
Comments
Post a Comment