যা রটনা, তা কি সত্য?কারবালা, হোসেনি ব্রাহ্মণ এবং এক প্রাচীন প্রবাদ“যা রটনা তা নয় ঘটনা, কিন্তু যা রটে তা কিছু তো বটে।”এই একটি বাংলা প্রবাদই হয়তো আমাদের ইতিহাস বোঝার সবচেয়ে পরিণত চাবিকাঠি।কারণ ইতিহাস শুধু বইয়ে লেখা থাকে না—ইতিহাস বাঁচে মানুষের মুখে মুখে,কখনো সত্য হয়ে,কখনো গল্প হয়ে,আর কখনো দুয়ের মাঝামাঝি এক ধূসর বাস্তবতা হিসেবে।
যা রটনা, তা কি সত্য?
কারবালা, হোসেনি ব্রাহ্মণ এবং এক প্রাচীন প্রবাদ
“যা রটনা তা নয় ঘটনা, কিন্তু যা রটে তা কিছু তো বটে।”
এই একটি বাংলা প্রবাদই হয়তো আমাদের ইতিহাস বোঝার সবচেয়ে পরিণত চাবিকাঠি।
কারণ ইতিহাস শুধু বইয়ে লেখা থাকে না—
ইতিহাস বাঁচে মানুষের মুখে মুখে,
কখনো সত্য হয়ে,
কখনো গল্প হয়ে,
আর কখনো দুয়ের মাঝামাঝি এক ধূসর বাস্তবতা হিসেবে।
কারবালার ইতিহাস নিয়ে এমনই একটি বহুল প্রচলিত কথা হলো—
“৩০ হাজার ব্রাহ্মণ নাকি ইমাম হোসেনের সঙ্গে যুদ্ধ করেছিলেন।”
এই কথাটা কি সত্য?
নাকি একেবারেই মিথ্যে?
নাকি আমাদের প্রবাদ অনুযায়ী—
ঘটনা নয়, কিন্তু কিছু তো বটে?
রটনার জন্ম কোথা থেকে?
ভারতীয় উপমহাদেশে কারবালার ঘটনা কেবল একটি ধর্মীয় স্মৃতি নয়,
এটি হয়ে উঠেছে—
ন্যায়ের প্রতীক
অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস
ক্ষমতার সামনে সত্য বলার ইতিহাস
এই মূল্যবোধ বহু শতাব্দী ধরে মুসলমান সমাজ ছাড়িয়ে
অন্যান্য ধর্মের মানুষকেও স্পর্শ করেছে।
এই স্পর্শ থেকেই জন্ম নেয় কিছু গল্প, কিছু বিশ্বাস, কিছু পরিচয়—
যার একটি হলো “হোসেনি (হুসাইনি) ব্রাহ্মণ” পরিচয়।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে—
শ্রদ্ধা বদলে যায় গল্পে
গল্প বদলে যায় সংখ্যায়
সংখ্যা বদলে যায় ইতিহাসে
আর তখনই জন্ম নেয় “৩০ হাজার”-এর মতো রটনা।
কিন্তু ঘটনা কী বলে?
ইতিহাসের নির্ভরযোগ্য দলিল অনুযায়ী—
কারবালার ময়দানে ইমাম হোসেনের সঙ্গে ছিলেন প্রায় ৭২ জন সঙ্গী
তারা ছিলেন তাঁর পরিবার, আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠ অনুসারী
কোনো প্রাচীন ইসলামী, পারস্য বা ভারতীয় ঐতিহাসিক গ্রন্থে
হাজার হাজার ব্রাহ্মণের যুদ্ধ অংশগ্রহণের উল্লেখ নেই
অর্থাৎ, 👉 রটনাটা ঘটনা নয়।
কিন্তু এখানেই গল্প শেষ নয়।
“কিছু তো বটে” — সেই অংশটা কোথায়?
এই জায়গাতেই আমাদের প্রবাদ দ্বিতীয় লাইনে এসে দাঁড়ায়—
“কিন্তু যা রটে তা কিছু তো বটে।”
এই “কিছু”-টা হলো—
কারবালার আত্মত্যাগ ভারতীয় সমাজকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল
বহু হিন্দু পরিবার ইমাম হোসেনকে ন্যায় ও আত্মবলিদানের প্রতীক হিসেবে মান্য করেছিল
পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে কিছু ব্রাহ্মণ পরিবার সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে
কারবালার স্মৃতির সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করেছিল
সেখান থেকেই “হোসেনি ব্রাহ্মণ” পরিচয়ের বিকাশ
এটি যুদ্ধের ইতিহাস নয়,
এটি শ্রদ্ধার ইতিহাস।
সমস্যা কোথায় হয়?
সমস্যা তখনই হয়, যখন—
শ্রদ্ধাকে যুদ্ধ বানানো হয়
প্রতীককে সংখ্যা বানানো হয়
বিশ্বাসকে প্রমাণ হিসেবে দাঁড় করানো হয়
তখন ইতিহাস দুর্বল হয়,
আর সত্য অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে।
কিন্তু ইমাম হোসেনের মহত্ত্ব এমনই যে— তাঁকে বড় করতে মিথ্যার দরকার পড়ে না।
এই ব্লগ কী করতে চায়?
এই ব্লগের উদ্দেশ্য—
কারও বিশ্বাসে আঘাত করা নয়
কারও পরিচয় অস্বীকার করা নয়
আবার অন্ধভাবে রটনাকেও সত্য বানানো নয়
এই লেখা শুধু এটুকুই বলতে চায়—
গল্পকে গল্প হিসেবে সম্মান করি,
আর ইতিহাসকে ইতিহাস হিসেবে বুঝি।
কারণ— যা রটনা তা নয় ঘটনা,
কিন্তু যা রটে—তা কিছু তো বটে।
(পরবর্তী অংশে আসবে)
হোসেনি ব্রাহ্মণ পরিচয়ের বিস্তারিত ইতিহাস
কারবালা কীভাবে ভারতীয় সমাজকে প্রভাবিত করেছে
কেন এমন রটনা সমাজে বারবার ফিরে আসে
ধর্ম, ইতিহাস ও মানবিকতার সীমারেখা
Written with AI
Comments
Post a Comment