এই অংশে আমরা আইন বনাম নৈতিকতা, এতিম সম্পর্কে কুরআনের অবস্থান, এবং ইসলামের মানবিক সুরক্ষা ব্যবস্থা স্পষ্টভাবে দেখব।দাদার আগে বাবা মারা গেলেনাতি কি সত্যিই ইসলামে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়?(বাংলা – অংশ ২)তাহলে কি ইসলাম এতিমকে উপেক্ষা করে?এখানেই সবচেয়ে বড় ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়।অনেকে মনে করেন—“যদি নাতি মিরাস না পায়, তাহলে ইসলাম নিশ্চয়ই তার কষ্টকে গুরুত্ব দেয়নি।”এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।
এই অংশে আমরা আইন বনাম নৈতিকতা, এতিম সম্পর্কে কুরআনের অবস্থান, এবং ইসলামের মানবিক সুরক্ষা ব্যবস্থা স্পষ্টভাবে দেখব।
দাদার আগে বাবা মারা গেলে
নাতি কি সত্যিই ইসলামে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়?
(বাংলা – অংশ ২)
তাহলে কি ইসলাম এতিমকে উপেক্ষা করে?
এখানেই সবচেয়ে বড় ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়।
অনেকে মনে করেন—
“যদি নাতি মিরাস না পায়, তাহলে ইসলাম নিশ্চয়ই তার কষ্টকে গুরুত্ব দেয়নি।”
এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।
কারণ ইসলাম দুইটি বিষয়কে আলাদা করে দেখে—
আইন (হুকুম / বিধান)
নৈতিকতা (দায়িত্ব / জবাবদিহি)
ইসলাম কখনো বলেনি—
“আইন মানলেই দায়িত্ব শেষ।”
কুরআনে এতিম সম্পর্কে অবস্থান কতটা কঠোর?
ইসলামে এতিমের ব্যাপারে ভাষা অত্যন্ত শক্ত।
কুরআনের কঠোর সতর্কতা
কুরআন-এ বলা হয়েছে—
“নিশ্চয়ই যারা অন্যায়ভাবে এতিমদের সম্পদ গ্রাস করে,
তারা তাদের পেটে আগুন ভরে নিচ্ছে।”
(সূরা নিসা ৪:১০)
এই আয়াত থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—
এতিমের হক নষ্ট করা ছোট গুনাহ নয়
এটি সরাসরি আল্লাহর পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি
এতিমকে অবহেলা করা নিষেধ
আরেক জায়গায় কুরআন বলে—
“অতএব, তুমি এতিমের প্রতি কঠোরতা করো না।”
(সূরা দুহা ৯৩:৯)
লক্ষ্য করুন— এটি কোনো আদালতের ধারা নয়,
এটি নৈতিক নির্দেশ।
আইনগত অধিকার না থাকলেই কি দায়িত্ব শেষ?
না।
ইসলামে একটি গভীর নীতি আছে—
আইন ন্যূনতম সীমা ঠিক করে,
নৈতিকতা সর্বোচ্চ দায়িত্ব নির্ধারণ করে।
অর্থাৎ:
নাতি মিরাসে আইনগত উত্তরাধিকারী নাও হতে পারে
কিন্তু সে এখনো একজন এতিম
এবং এতিমের দায়িত্ব সমাজ ও পরিবারের উপর বর্তায়
ইসলাম কীভাবে এই ফাঁক পূরণ করেছে?
ইসলাম আইন তৈরি করে থেমে যায়নি।
সে মানবিক সমাধানের পথও খুলে দিয়েছে।
১. ওসিয়ত (Wasiyyah) — কুরআনসম্মত সমাধান
কুরআনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—
“তোমাদের মধ্যে কারো মৃত্যু উপস্থিত হলে,
যদি সে সম্পদ রেখে যায়,
তবে তার জন্য ওসিয়ত করা নির্ধারিত।”
(সূরা বাকারা ২:১৮০)
এর মাধ্যমে:
সর্বোচ্চ ১/৩ সম্পত্তি
আইনগত উত্তরাধিকারী নয়—এমন ব্যক্তিকে দেওয়া যায়
এতিম নাতি এখানে সবচেয়ে যোগ্য
যে দাদা জানেন—
“আমার নাতি আমার পরে অসহায় হবে”
কিন্তু তবুও ওসিয়ত করেন না—
তিনি হয়তো আইন মানলেন,
কিন্তু নৈতিক দায়িত্ব এড়ালেন।
২. জীবিত অবস্থায় দান (হিবা)
আরও একটি শক্তিশালী সমাধান হলো— জীবিত অবস্থায় দান করা।
এর সুবিধা:
উত্তরাধিকার ঝামেলা নেই
ভবিষ্যৎ বিরোধ এড়ানো যায়
নাতির নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়
অনেক আলেম বলেছেন—
“এটি সবচেয়ে নিরাপদ ও উত্তম পথ।”
৩. আল্লাহর কাছে জবাবদিহি
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা মনে রাখা দরকার—
আদালত শুধু আইন দেখে,
কিন্তু আল্লাহ দেখেন ইচ্ছা, উদাসীনতা ও দায়িত্ববোধ।
কেউ যদি বলেন—
“আইনে বাধা নেই, তাই কিছু করিনি”
এই যুক্তি আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।
সমস্যাটা আসলে কোথায়?
সমস্যা ইসলামে নয়।
সমস্যা এখানে—
ওসিয়ত না করা
দান না করা
নৈতিক দায়িত্বকে উপেক্ষা করা
“আইন মানলেই সব ঠিক” ভাবা
ইসলাম কখনো এমন সমাজ কল্পনা করেনি— যেখানে মানুষ শুধু ন্যূনতম আইন মেনে নৈতিকতা ভুলে যাবে।
অংশ ২-এর সারসংক্ষেপ
নাতি মিরাস না পেলে ইসলাম তাকে “ভুলে যায়” না
ইসলাম আইন ও নৈতিকতাকে আলাদা করে
এতিমের ব্যাপারে কুরআনের ভাষা অত্যন্ত কঠোর
ওসিয়ত ও দান—দুটি মানবিক পথ খোলা রেখেছে
আইন মানা আর ন্যায় করা এক জিনিস নয়
👉 পরবর্তী অংশ (বাংলা – Part 3):
চারটি সুন্নি মাজহাব কী বলে?
হানাফি, শাফেয়ি, মালেকি ও হাম্বলি মতামত
Written with AI
Comments
Post a Comment