ক্ষমতা, পরিচয় এবং শূন্য হয়ে যাওয়ার ভয়চূড়ান্ত অংশ: ক্ষমতার বাইরে, শূন্যতার ওপারেক্ষমতাকে পূজা করার সামাজিক মূল্যযে সমাজ ক্ষমতাকে পূজা করে, সে শুধু শক্তিকে পুরস্কৃত করে না—সে দুর্বলতাকে শাস্তি দেয়।এই শাস্তি সব সময় দৃশ্যমান হয় না। অনেক সময় তা আসে নীরবতার মাধ্যমে। ডাক আসা বন্ধ হয়। মতামত আর শোনা হয় না। উপস্থিতি অপ্রয়োজনীয় হয়ে যায়।
ক্ষমতা, পরিচয় এবং শূন্য হয়ে যাওয়ার ভয়
চূড়ান্ত অংশ: ক্ষমতার বাইরে, শূন্যতার ওপারে
ক্ষমতাকে পূজা করার সামাজিক মূল্য
যে সমাজ ক্ষমতাকে পূজা করে, সে শুধু শক্তিকে পুরস্কৃত করে না—
সে দুর্বলতাকে শাস্তি দেয়।
এই শাস্তি সব সময় দৃশ্যমান হয় না। অনেক সময় তা আসে নীরবতার মাধ্যমে। ডাক আসা বন্ধ হয়। মতামত আর শোনা হয় না। উপস্থিতি অপ্রয়োজনীয় হয়ে যায়।
ধীরে ধীরে একটি অঘোষিত নিয়ম শেখানো হয়—
গুরুত্ব পেতে হলে, তোমাকে ক্ষমতার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হতে হবে।
এই নিয়ম মানুষের আচরণ বদলে দেয়। মানুষ সত্যের পেছনে নয়, প্রাসঙ্গিকতার পেছনে ছুটে। চিন্তার বদলে অভিনয় বাড়ে। ক্ষমতা আঁকড়ে ধরা হয়—even যখন তা আত্মসম্মান ক্ষয় করে।
ক্ষমতা চলে গেলে ধ্বংস হয় না ক্ষমতা—
ধ্বংস হয় যে পরিচয়ের নিচে কিছুই তৈরি হয়নি।
ক্ষমতার সবচেয়ে বড় প্রতারণা
ক্ষমতার সবচেয়ে বড় প্রতারণা আধিপত্য নয়।
এটি অন্তর্ভুক্তির ভ্রম।
ক্ষমতা মানুষকে মনে করায়—আমি দেখা যাচ্ছি, তাই আমি আছি। ক্ষমতা হারালে এই ভ্রম ভেঙে যায় এবং মানুষ মুখোমুখি হয় এক ভয়ংকর প্রশ্নের—
ক্ষমতা ছাড়া কি আমি কখনোই বাস্তব ছিলাম?
এই জায়গায় হতাশা আসে—জীবনের অর্থ শেষ হয়ে গেছে বলে নয়,
বরং অর্থকে কখনোই স্বাধীনভাবে বাঁচতে দেওয়া হয়নি বলে।
ক্ষমতার পরের নীরবতা
ক্ষমতা চলে গেলে এক গভীর নীরবতা নামে।
এই নীরবতা ফাঁকা নয়। এতে ভরে থাকে স্মৃতি, সন্দেহ, অসম্পূর্ণ পরিচয় আর প্রশ্ন। এটি সেই নীরবতা—যেখানে আর কেউ প্রতিক্রিয়া দেয় না।
অনেকে এই নীরবতাকে শাস্তি ভাবে।
অনেকে একে মূল্যহীনতার প্রমাণ ধরে।
আসলে এটি কোনোটাই নয়।
এটি সেই মুহূর্ত,
যখন মানুষ দর্শক ছাড়া নিজের সঙ্গে থাকে।
কেন এই মুহূর্ত অসহনীয় মনে হয়
দর্শক ছাড়া বাঁচা অসহনীয় লাগে, কারণ আমাদের পরিচয় সামাজিক প্রতিধ্বনিতে গড়ে ওঠে। হাততালি থেমে গেলে নিজেকে অসম্পূর্ণ মনে হয়।
কিন্তু এই অস্বস্তিই একটি গভীর সত্য প্রকাশ করে—
আমরা যাকে “আমি” বলতাম, তার অনেকটাই ছিল অভিনয়।
অভিনয় মিথ্যা নয়—এটি টিকে থাকার কৌশল।
কিন্তু টিকে থাকার কৌশল পরিচয় নয়।
“শূন্য” শব্দটির নতুন মানে
“শূন্য” শব্দটি শুনলেই আমরা ধ্বংস, ব্যর্থতা, মুছে যাওয়ার ছবি দেখি।
কিন্তু দার্শনিকভাবে, শূন্যতা মানে অনুপস্থিতি নয়।
এটি আসক্তিহীনতা।
শূন্য হওয়া মানে কিছুই না থাকা নয়।
এর মানে হলো—ভুল সংজ্ঞা থেকে মুক্ত হওয়া।
ক্ষমতার পর যে সত্তা থাকে,
সে ছোট নয়—
সে শুধু ফুলে ওঠা নয়।
শয়তান থেকে সাক্ষীতে
এই লেখার রূপান্তর—রাজা থেকে মানুষ, মানুষ থেকে শয়তান—কোনো নৈতিক পতন নয়।
“শয়তান” মানে খারাপ হওয়া নয়।
এর মানে তীব্র আত্মসচেতনতা।
মুখোশ পড়ে গেলে বিচার আসে। সমাজ যেভাবে মূল্য মাপে, সেই মাপজোক নিজের উপরই বসে যায়। সেখান থেকে জন্ম নেয় লজ্জা।
কিন্তু লজ্জা সত্য নয়।
এটি একটি অভ্যাস।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লজ্জা বদলে যেতে পারে সাক্ষী হওয়ায়।
সাক্ষী শাসন করে না,
নিজেকে ন্যায্য প্রমাণ করে না,
দোষারোপও করে না।
সে শুধু দেখে।
যে সত্তা ক্ষমতা চায় না
একটি সত্তা আছে—অর্জনের আগেও, ক্ষতির পরেও।
এই সত্তা—
স্বীকৃতি ছাড়াও শ্বাস নিতে পারে
উপেক্ষায় ভেঙে পড়ে না
নীরবতাকে মুছে যাওয়া ভাবে না
এই সত্তাকে সমাজ উদযাপন করে না, কারণ একে ব্যবহার করা যায় না। একে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। এটি আধিপত্যের কাছে মাথা নত করে না।
এই কারণেই এটি
ক্ষমতার চেয়েও গভীর।
পৃথিবীর দেওয়া গল্পের বাইরে এক শেষ
পৃথিবী সহজ গল্প দেয়—
ক্ষমতা পেলে অর্থ
ক্ষমতা হারালে শূন্যতা
বাস্তবতা এত সহজ নয়—এবং আরও মানবিক।
ক্ষমতা জীবনকে আকার দিতে পারে,
কিন্তু ভিত দিতে পারে না।
ক্ষমতা গেলে যা থাকে তা ধ্বংস নয়—
তা উন্মোচন।
আর উন্মোচন, যত কষ্টকরই হোক,
সৎ।
শেষ কথা
ক্ষমতা তোমাকে রাজা বানাতে পারে,
কিন্তু তোমাকে সম্পূর্ণ করতে পারে না।
ক্ষমতা হারানো শয়তান হওয়া নয়।
শূন্য হওয়া মানে ফাঁকা হওয়া নয়।
এর মানে শুধু এই—
তোমার অস্তিত্ব আর
দেখা হওয়ার ওপর নির্ভর করে না।
আর যখন সেই কোলাহল থেমে যায়,
যা তোমাকে বিশ্বাস করিয়েছিল
তুমি শুধু ক্ষমতার কারণেই আছো—
তখন যা থাকে,
তা কিছুই নয় না।
তা হলো এক নতুন, নীরব শুরু।
চূড়ান্ত অংশ সমাপ্ত
Written with AI
Comments
Post a Comment