যখন সামান্য সততাই আমাকে শয়তান বানায়(বাংলা – পার্ট ২)বাস্তব জীবনে এই সত্যের রূপসততা খুব কমই নাটকীয়ভাবে শাস্তি পায়।এটি শাস্তি পায় নীরবে।কথাবার্তা ছোট হয়ে যায়।আমন্ত্রণ আসা বন্ধ হয়।পরামর্শ বদলে যায় বিচার-এ।সম্মান ধীরে ধীরে দূরত্বে রূপ নেয়।কেউ সরাসরি বলে না—
যখন সামান্য সততাই আমাকে শয়তান বানায়
(বাংলা – পার্ট ২)
বাস্তব জীবনে এই সত্যের রূপ
সততা খুব কমই নাটকীয়ভাবে শাস্তি পায়।
এটি শাস্তি পায় নীরবে।
কথাবার্তা ছোট হয়ে যায়।
আমন্ত্রণ আসা বন্ধ হয়।
পরামর্শ বদলে যায় বিচার-এ।
সম্মান ধীরে ধীরে দূরত্বে রূপ নেয়।
কেউ সরাসরি বলে না—
“তোমার সততা আমাদের ভালো লাগছে না।”
তার বদলে শোনা যায়—
“তুমি বদলে গেছ।”
“তুমি খুব নেগেটিভ হয়ে গেছ।”
“তুমি নিজেকে সবার থেকে আলাদা ভাবছ।”
আসলে বদলটা একটাই—
আপনি ভান করা বন্ধ করেছেন।
নীরবতা কেন সততার চেয়ে বেশি পুরস্কৃত হয়
নীরবতা ব্যবস্থাকে চলতে দেয়।
মানুষ চুপ থাকলে—
ক্ষমতা প্রশ্নের মুখে পড়ে না
অভ্যাস ভাঙে না
অস্বস্তি ঢাকা পড়ে
সততা কিন্তু গতি কমিয়ে দেয়।
এটি প্রশ্ন তোলে।
ভাবতে বাধ্য করে।
স্বস্তির ধারাবাহিকতায় ছেদ আনে।
এই কারণেই নীরবতাকে বলা হয় “পরিপক্বতা”,
আর সততাকে বলা হয় “অপরিপক্বতা”।
কিন্তু নীরবতা সব সময় প্রজ্ঞা নয়।
অনেক সময় তা শুধুই টিকে থাকার কৌশল।
সৎ মানুষের মানসিক একাকিত্ব
সততার সবচেয়ে বড় মূল্য প্রত্যাখ্যান নয়—
তা হলো ভুল বোঝা হওয়া।
সৎ মানুষকে প্রায়ই বলা হয়—
“তুমি খুব বেশি সিরিয়াস।”
“সবকিছু নিয়ে এত ভাবার দরকার কী?”
“সবাই তো এমনই করে।”
ধীরে ধীরে নিজের মনেই প্রশ্ন জাগে—
আমি কি খুব কঠোর?
আমি কি ভুল ভাবছি?
সততা কি আদৌ এরকম মূল্য চায়?
এই জায়গাটাই সবচেয়ে কঠিন।
কারণ এখানে লড়াইটা বাইরের নয়—
ভিতরের।
কিন্তু সত্য চেপে রাখা শান্তি আনে না।
শুধু অস্বস্তিটা পিছিয়ে দেয়।
সততা আর নিষ্ঠুরতার পার্থক্য
সব কঠোর কথা সততা নয়।
আবার সব সততাই কোমল হয় না।
সত্যিকারের সততা মানে নয়—
অপমান করা
নৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করা
দায়িত্ব ছাড়া কথা বলা
সত্যিকারের সততা মানে—
বিদ্বেষ ছাড়া স্পষ্টতা
ঘৃণা ছাড়া সীমারেখা
নাটক ছাড়া সত্য
যখন সততা নিষ্ঠুরতায় পরিণত হয়,
তখন তার নৈতিক ভিত্তি নষ্ট হয়।
কিন্তু সচেতন সততা
শেষ পর্যন্ত সম্মানই বহন করে—
তা সঙ্গে সঙ্গে বোঝা না গেলেও।
সৎ থাকার জন্য যে শক্তি দরকার
সৎ থাকতে গর্জনের সাহস লাগে না।
লাগে নীরব সহনশীলতা।
যেমন—
ভুল বোঝা হওয়া সহ্য করা
ব্যাখ্যা না দিয়েও শান্ত থাকা
একা হয়েও তিক্ত না হওয়া
সততা শেখায় অস্বস্তির সাথে বসে থাকতে।
তা আপনাকে ধৈর্য শেখায়।
আত্মসম্মান ধারালো করে।
বাহ্যিক স্বীকৃতির প্রয়োজন কমিয়ে দেয়।
একসময় প্রশ্নটা বদলে যায়— “ওরা আমাকে খলনায়ক ভাবে কেন?”
থেকে
“নিজের সাথে বেঈমান হয়ে কি আমি শান্ত থাকতে পারব?”
সততার লুকানো পুরস্কার
সততা তাৎক্ষণিক পুরস্কার দেয় না।
কিন্তু দেয় গভীর পুরস্কার।
যেমন—
অপরাধবোধ ছাড়া ঘুম
অনুশোচনা ছাড়া সিদ্ধান্ত
মুখোশ ছাড়া সম্পর্ক
মানুষ কম আসে,
কিন্তু যারা আসে তারা সত্যিকারের।
সততা সর্বত্র আপন করে নেয় না,
কিন্তু নিজের ভিতরে একটি নিরাপদ ঘর বানিয়ে দেয়।
যখন “শয়তান” বলা আর ব্যথা দেয় না
একটা সময় আসে
যখন তকমার শক্তি কমে যায়।
“কঠিন”, “নেগেটিভ”, “খারাপ”—
এই শব্দগুলো আর কাঁপিয়ে দেয় না।
কারণ তখন আপনি শক্ত শিকড় গেড়ে বসেন।
আপনি বুঝে যান—
সবাই আপনাকে বুঝবে না
সব জায়গা আপনার সত্যের জন্য নয়
সব প্রত্যাখ্যান ক্ষতি নয়
কিছু দরজা বন্ধ হয়
কারণ আপনি আর নিজেকে ছোট করেন না।
একটি নীরব আত্মপ্রশ্ন
যদি আপনার সততা কাউকে অস্বস্তিতে ফেলে,
এক মুহূর্ত থামুন—
কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমা চাইবেন না।
নিজেকে জিজ্ঞেস করুন—
আমি কি অহং থেকে বলছি, না স্পষ্টতা থেকে?
আমি কি সারাতে চাইছি, না আঘাত করতে?
আমি কি নিজের বিবেকের সাথে আছি?
যদি উত্তরগুলো পরিষ্কার হয়,
তবে সেই অস্বস্তি আপনার বহন করার দায় নয়।
উপসংহার (পার্ট ২ সমাপ্তি)
একটি অসৎ দুনিয়ায় সৎ থাকা
আপনাকে অনেক সময় খলনায়ক বানাবে।
আপনি ভুল বলেই নয়,
বরং কারণ আপনি মানুষকে মনে করিয়ে দেন
তারা কী এড়িয়ে চলছে।
আপনাকে বাহবা দেওয়া হবে না।
আপনাকে বোঝাও নাও হতে পারে।
কিন্তু আপনি অক্ষত থাকবেন।
আর এমন এক পৃথিবীতে
যেখানে প্রতিদিন নিজেকে ভাঙতে বলা হয়,
অক্ষত থাকা এক নীরব বিজয়।
Written with AI
Comments
Post a Comment