বাংলা ব্লগ – পার্ট ৩ (একটানা লেখা)নিজের সঙ্গে কথা বলা—এই ধারণাটিকেই সমাজ সবচেয়ে বেশি ভুল বোঝে। কেউ যদি চুপ করে বসে থাকে, চিন্তায় ডুবে থাকে, সমাজ ধরে নেয় তার মাথায় কিছু সমস্যা আছে। অথচ মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথনগুলোই হয় নিজের সঙ্গে। কোনটা ঠিক, কোনটা ভুল—এই সিদ্ধান্তগুলো আসে ভেতরের আলোচনায়। এই
🟦 বাংলা ব্লগ – পার্ট ৩ (একটানা লেখা)
নিজের সঙ্গে কথা বলা—এই ধারণাটিকেই সমাজ সবচেয়ে বেশি ভুল বোঝে। কেউ যদি চুপ করে বসে থাকে, চিন্তায় ডুবে থাকে, সমাজ ধরে নেয় তার মাথায় কিছু সমস্যা আছে। অথচ মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথনগুলোই হয় নিজের সঙ্গে। কোনটা ঠিক, কোনটা ভুল—এই সিদ্ধান্তগুলো আসে ভেতরের আলোচনায়। এই আত্মকথন ছাড়া মানুষ কেবল প্রতিক্রিয়াশীল যন্ত্র হয়ে ওঠে।
নীরব মানুষ আসলে নিজের জীবনকে বোঝার দায়িত্ব নিজেই নেয়। সে অন্যের মতামতের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করে না। এই স্বাধীনতাই সমাজকে অস্বস্তিতে ফেলে। কারণ সমাজ চায়, মানুষ নিয়ম মেনে চলুক, প্রশ্ন না করুক। নীরব মানুষ প্রশ্ন করে—চুপচাপ, ভেতরে।
এই নীরবতার একটি আধ্যাত্মিক দিকও আছে। বহু প্রাচীন দর্শন ও সাধনাপথে নীরবতাকে সত্যের কাছাকাছি যাওয়ার মাধ্যম বলা হয়েছে। শব্দ বিভ্রান্ত করে, নীরবতা পরিষ্কার করে। কিন্তু আধুনিক জীবন শব্দনির্ভর। তাই নীরবতা এখানে বিপজ্জনক মনে হয়।
নীরব মানুষদের প্রায়ই বলা হয় তারা “অমিল”। কিন্তু অমিল হওয়া মানেই অসুস্থ হওয়া নয়। প্রকৃতির দিকে তাকালেই বোঝা যায়—সব ফুল একরকম নয়, সব পাখি একভাবে ডাকে না। তবু সবাই মিলে একটি ভারসাম্য তৈরি করে। মানুষের সমাজে এই বৈচিত্র্যকে আমরা মানতে শিখিনি।
একটানা ভুল ব্যাখ্যা মানুষকে ধীরে ধীরে ক্লান্ত করে তোলে। যখন কেউ বারবার নিজের অবস্থান বোঝাতে ব্যর্থ হয়, তখন সে কথা বলা ছেড়ে দেয়। এই ছেড়ে দেওয়াটা হার মানা নয়; এটি বেছে নেওয়া নীরবতা। এখানে নীরবতা মানসিক দৃঢ়তার চিহ্ন।
সমাজ “পাগল” শব্দটি খুব সহজে ব্যবহার করে। এই শব্দটি দিয়ে ভাবার দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া যায়। কেউ আলাদা হলেই তাকে পাগল বললে আর বুঝতে হয় না কেন সে আলাদা। এই তকমা ইতিহাসজুড়ে ভিন্ন চিন্তার মানুষদের ওপর চাপানো হয়েছে।
কিন্তু নীরব মানুষ ভেতরে ভেতরে শক্তিশালী হয়। সে আবেগকে বোঝে, নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে। সে জানে কখন কথা বলা দরকার, আর কখন নীরব থাকাই শ্রেয়। এই সংযম একটি গুণ, দুর্বলতা নয়।
ঘরের কোণ এখন আর লুকোনোর জায়গা নয়। এটি একটি পর্যবেক্ষণের স্থান। এখান থেকে মানুষ সমাজকে দেখে, মানুষের আচরণ বোঝে। এই অবস্থান থেকে পাওয়া উপলব্ধি অনেক সময় ভিড়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে পাওয়া যায় না।
নীরবতার মধ্যে মানুষ নিজের সঙ্গে শান্তি খুঁজে পায়। এই শান্তি কোলাহলের চেয়ে বেশি স্থায়ী। এটি কোনো বাহ্যিক স্বীকৃতির ওপর নির্ভর করে না।
Written with AI
👉
Comments
Post a Comment