যখন সামান্য সততাই আমাকে শয়তান বানায়(বাংলা – চূড়ান্ত অংশ)সততার আধ্যাত্মিক দিকমনস্তত্ত্ব আর সমাজের গণ্ডি ছাড়িয়ে সততা এক ধরনের আধ্যাত্মিক অবস্থান।সততা মানে নিজের ভাবনা, কথা ও কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখা।প্রায় সব আধ্যাত্মিক দর্শনেই “ভালো মানুষ” মানে জনপ্রিয় মানুষ নয়,বরং অখণ্ডতা (Integrity)–র মানুষ।অখণ্ডতা নীরব।তা তর্ক করে না।
যখন সামান্য সততাই আমাকে শয়তান বানায়
(বাংলা – চূড়ান্ত অংশ)
সততার আধ্যাত্মিক দিক
মনস্তত্ত্ব আর সমাজের গণ্ডি ছাড়িয়ে সততা এক ধরনের আধ্যাত্মিক অবস্থান।
সততা মানে নিজের ভাবনা, কথা ও কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখা।
প্রায় সব আধ্যাত্মিক দর্শনেই “ভালো মানুষ” মানে জনপ্রিয় মানুষ নয়,
বরং অখণ্ডতা (Integrity)–র মানুষ।
অখণ্ডতা নীরব।
তা তর্ক করে না।
নিজেকে প্রমাণ করতে ছোটে না।
সে শুধু নিজের জায়গায় স্থির থাকে।
এই কারণেই সততা প্রথমে একাকিত্ব নিয়ে আসে।
কারণ সে সেই কোলাহল সরিয়ে দেয়
যার আড়ালে আমরা শূন্যতাকে লুকিয়ে রাখি।
বাইরে মিথ্যে বলা বন্ধ করলে,
ভিতরেও মিথ্যে বলা বন্ধ করতে হয়।
এই মুখোমুখি হওয়াটা কঠিন—
কিন্তু পবিত্র।
নিজেকে বিসর্জন না দিয়ে ক্ষমা করা
ক্ষমা নিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা হলো—
ক্ষমা মানেই সব মেনে নেওয়া।
না।
ক্ষমা মানে নয়—
অসম্মান সহ্য করা
সীমারেখা মুছে ফেলা
আবার সেই জায়গায় ফিরে যাওয়া
যেখানে নিজেকে চুপ করিয়ে রাখতে হয়েছিল
সত্যিকারের ক্ষমা মানে—
ক্ষোভ ছেড়ে দেওয়া
কিন্তু আত্মসম্মান ছেড়ে না দেওয়া
সততা এই ভারসাম্য শেখায়।
শান্তি আসে না
সবকিছু ঠিক করতে গিয়ে,
শান্তি আসে
নিজেকে ত্যাগ করা বন্ধ করলে।
তিক্ত না হয়ে সততায় বাঁচা
এখানে একটি সূক্ষ্ম বিপদ আছে।
বারবার ভুল বোঝা হলে
সৎ মানুষ তিক্ত হয়ে যেতে পারে।
তিক্ততা হলো সেই সততা
যেখানে সহানুভূতি হারিয়ে গেছে।
সত ও মানবিক থাকতে হলে মনে রাখতে হয়—
আপনার সত্যের বাহবা লাগবে না
আপনার স্পষ্টতা আক্রমণাত্মক হতে হবে না
আপনার সীমারেখা ব্যাখ্যা চাইবে না
সবাই আপনার ভিতরের জগতে ঢোকার অধিকার রাখে না।
সততা মানে সব খুলে বলা নয়।
সততা মানে বাছাই করা সত্যতা।
যেখানে প্রয়োজন, সেখানে বলা।
যেখানে শান্তি রক্ষা পায়, সেখানে নীরব থাকা।
এটা আপস নয়।
এটা প্রজ্ঞা।
আপনার সত্য কোথায় থাকবে, তা বেছে নেওয়া
সততা শেষ পর্যন্ত আপনাকে বাছাই করতে শেখায়।
সব ঘর নিরাপদ নয়।
সব কান প্রস্তুত নয়।
সব সম্পর্ক সত্য বহন করতে পারে না।
এটা আপনার ব্যর্থতা নয়।
কিছু মানুষ সততার কথা ভালোবাসে
যতক্ষণ না তা বদল চায়।
তাই আপনি শিখে যান—
কোথায় বলা দরকার
কোথায় সরে আসা ভালো
কোথায় শুধু দেখা যথেষ্ট
আপনি আর নিজেকে ব্যাখ্যা করেন না
যাদের ভুল বোঝাই স্থায়ী সিদ্ধান্ত।
এটা অহংকার নয়।
এটা মানসিক পরিণততা।
“ভালো” শব্দটার নতুন অর্থ
সমাজ “ভালো” মানে যা বোঝে—
মানিয়ে নেওয়া
চুপ থাকা
সুবিধাজনক হওয়া
সততা এই সংজ্ঞা ভেঙে দেয়।
ভালো মানে আরাম নয়।
ভালো মানে বিবেকের সাথে সামঞ্জস্য।
কখনো ভালো অস্বস্তি তৈরি করে।
কখনো হতাশ করে।
কখনো একা হাঁটে।
এতে সে খারাপ হয় না।
এতে সে বাস্তব হয়।
যখন আর বোঝানো দরকার হয় না
এই পথে একটা নীরব মুক্তি আসে।
যখন আপনি বুঝতে পারেন—
সবাই আমাকে বুঝবে—এর দরকার নেই
আমি নিজেকে ঠিক রাখতে পারলেই যথেষ্ট
তখন আপনি স্বীকৃতি খোঁজা বন্ধ করেন।
ব্যাখ্যার মহড়া বন্ধ করেন।
আর নিজের সত্যকে ছোট করে তোলেন না
কারও আরামের জন্য।
এই পর্যায়ে
“কঠিন মানুষ” তকমা
আর অপমান লাগে না।
বরং বোঝায়—
আপনি আর অভিনয় করছেন না।
শেষ আত্মপ্রশ্ন
যদি আপনার সততা আপনাকে
কারও চোখে শয়তান বানিয়ে দেয়,
একটু থামুন।
নিজেকে জিজ্ঞেস করুন—
আমি কি স্পষ্ট ছিলাম, নিষ্ঠুর নয়?
আমি কি দৃঢ় ছিলাম, বিদ্বেষী নয়?
আমি কি নিজের বিবেকের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম?
যদি উত্তর হ্যাঁ হয়,
তবে সেই তকমা
আপনার পরিচয় নয়।
ওটা সেই ভয়ের পরিচয়
যেখান থেকে তকমাটা এসেছে।
চূড়ান্ত উপসংহার
আমি সামান্য সৎ হয়েছিলাম।
মানুষ আমাকে শয়তান বানিয়ে দিল।
আমি কিছু ভাঙিনি—
আমি শুধু ভানটা ধরে রাখিনি।
যে দুনিয়া আরামদায়ক মিথ্যেতে বাঁচে,
সেখানে সত্য সবসময়ই হুমকি।
আপনি সম্মান হারাতে পারেন।
আপনি ঘনিষ্ঠতা হারাতে পারেন।
আপনি পরিচিত জমি হারাতে পারেন।
কিন্তু আপনি একটি জিনিস পাবেন— নিজের চোখে তাকানোর সাহস,
চোখ নামাতে না হওয়া।
আর সেটা—
কোনো দুনিয়াতেই—
শয়তান হওয়া নয়।
ওটা সাহস।
Written with AI
Comments
Post a Comment