এই ব্লগটি কেবল দার্শনিক ও আত্মবিশ্লেষণমূলক উদ্দেশ্যে লেখা।কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী, ধর্ম বা মতাদর্শকে আঘাত করার উদ্দেশ্য নেই।এখানে প্রকাশিত মতামত লেখকের ব্যক্তিগত উপলব্ধি।কীওয়ার্ড (Keywords)সততা ও সমাজ, সত্য বনাম ভণ্ডামি, নৈতিক সাহস, সততার মূল্য, সৎ মানুষের একাকিত্ব, মানব মনস্তত্ত্বহ্যাশট্যাগ (Hashtags)#সততা#সত্য#জীবনেরদর্শন#নৈতিকসাহস#ভণ্ডামি#নিজেরসাথেসৎ
যখন সামান্য সততাই আমাকে শয়তান বানায়
কবিতা
আমি একটু সৎ হলাম,
মানুষ আমাকে শয়তান বানিয়ে দিল।
আমার অপরাধ কোনো ক্ষতি নয়—
অপরাধ ছিল মিথ্যার পাহারা না দেওয়া।
আমি চিৎকার করিনি,
নিয়ম ভাঙিনি,
শুধু সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছিলাম
এক বাঁকা দুনিয়ার সামনে।
সত্যের কোনো অস্ত্র লাগে না,
তার উপস্থিতিই যথেষ্ট।
তাই আমাকে নিষ্ঠুর বলা হলো,
যেন নীরব মিথ্যেটা বাঁচে।
যে সমাজ সমঝোতায় টিকে থাকে,
সেখানে সততা হয়ে ওঠে আক্রমণ।
আর যে মুখোশ খুলে ফেলে,
সে-ই হয়ে যায় অপরাধী।
বিশ্লেষণ ও দর্শন
এই কবিতা কোনো অভিযোগ নয়,
এটি একটি অভিজ্ঞতার ভাষ্য।
“আমি একটু সৎ হলাম, মানুষ আমাকে শয়তান বানিয়ে দিল”—
এই একটি বাক্যে লুকিয়ে আছে সমাজের গভীর মনস্তত্ত্ব।
দার্শনিক ব্যাখ্যা
সততা মানুষকে ভয় পাইয়ে দেয়
কারণ সততা আয়নার মতো—
মানুষ নিজের আপসগুলো দেখতে পায়।
দোষ চাপানোর প্রবণতা
নিজের অস্বস্তি ঢাকতে মানুষ
সৎ ব্যক্তিকেই দোষী বানায়।
নৈতিক উলটপালট
নীরবতা = ভদ্রতা
মানিয়ে নেওয়া = বুদ্ধিমত্তা
সততা = অহংকার
একাকিত্বের দর্শন
সততা প্রায়ই একা করে দেয়—
ভুল বলে নয়, বিরল বলে।
এখানে “শয়তান” কোনো ব্যক্তি নয়,
এটি একটি সমাজিক তকমা—
যা সত্যকে দমন করার জন্য ব্যবহার করা হয়।
ব্লগ
যখন সামান্য সততাই আমাকে শয়তান বানায়
ভূমিকা
ছোটবেলা থেকে আমাদের শেখানো হয়—
সততাই সর্বোচ্চ গুণ।
বইয়ে, বক্তৃতায়, উপদেশে—
সত্যের মহিমা গাওয়া হয়।
কিন্তু বাস্তব জীবনে সত্যের দাম
অনেক সময় ভীষণ চড়া।
এই লেখার জন্ম একটি সহজ উপলব্ধি থেকে—
আমি একটু সৎ হলাম,
আর মানুষ আমাকে শয়তান বানিয়ে দিল।
আমি কাউকে আঘাত করিনি।
আমি কারও ক্ষতি করিনি।
আমি শুধু মিথ্যেকে সাপোর্ট করা বন্ধ করেছিলাম।
সততা কেন অস্বস্তি তৈরি করে
সমাজ চলে কিছু অদৃশ্য নিয়মে—
মানিয়ে নেওয়া
চুপ থাকা
সুবিধামতো সত্য বলা
সততা এই সমঝোতাকে ভেঙে দেয়।
কোনো প্রতিবাদ ছাড়াই।
একজন সৎ মানুষ প্রশ্ন তোলে না,
কিন্তু তার উপস্থিতিই প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।
কেন সৎ মানুষকে “খারাপ” বলা হয়
সততাকে প্রায়ই ভুল বোঝা হয়—
অহংকার
জেদ
নেতিবাচকতা
সহানুভূতির অভাব
আসলে সততা মানে
নিজের ভিতরের সাথে সৎ থাকা।
মানুষ সততাকে প্রত্যাখ্যান করে
কারণ সততা আত্মসমালোচনা চায়—
আর সবাই তার জন্য প্রস্তুত নয়।
“শয়তান” তকমার মনস্তত্ত্ব
কারও দিকে আঙুল তোলা
নিজেকে নির্দোষ রাখার সহজ উপায়।
সৎ মানুষকে দোষী বানালে—
অপরাধবোধ কমে
মানসিক ভারসাম্য ফেরে
নিজের মিথ্যে নিরাপদ থাকে
তাই সত্য নয়,
সত্য বলাই হয়ে ওঠে অপরাধ।
সততার নীরব মূল্য
সততার মূল্য অনেক সময় নীরব—
সম্পর্ক দূরে সরে যায়
ভুল বোঝাবুঝি বাড়ে
একাকিত্ব বাড়ে
কিন্তু একটি জিনিস পাওয়া যায়— নিজের সাথে শান্তি।
সম্মান হারানো যায়,
কিন্তু আত্মসম্মান নয়।
উপসংহার (পার্ট ১ সমাপ্তি)
এই দুনিয়ার আরও নিখুঁত মানুষ দরকার নেই।
দরকার এমন মানুষ—
যারা অন্তত নিজের সাথে মিথ্যে বলে না।
যদি আপনার সততা আপনাকে
কারও গল্পে খলনায়ক বানায়,
তবে বুঝতে হবে—
সেই গল্পটা মিথ্যে ছাড়া টিকত না।
দায়বদ্ধতা (Disclaimer)
এই ব্লগটি কেবল দার্শনিক ও আত্মবিশ্লেষণমূলক উদ্দেশ্যে লেখা।
কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী, ধর্ম বা মতাদর্শকে আঘাত করার উদ্দেশ্য নেই।
এখানে প্রকাশিত মতামত লেখকের ব্যক্তিগত উপলব্ধি।
কীওয়ার্ড (Keywords)
সততা ও সমাজ, সত্য বনাম ভণ্ডামি, নৈতিক সাহস, সততার মূল্য, সৎ মানুষের একাকিত্ব, মানব মনস্তত্ত্ব
হ্যাশট্যাগ (Hashtags)
#সততা
#সত্য
#জীবনেরদর্শন
#নৈতিকসাহস
#ভণ্ডামি
#নিজেরসাথেসৎ
Written with AI
Comments
Post a Comment